সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নবনির্মিত এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এটিএমসি) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার চালুর ফলে দেশের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এতে ফ্লাইট পরিচালনায় নির্ভুলতা ও সময়ানুবর্তিতা বাড়বে, আকাশসীমার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমে আসবে।
উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের আকাশসীমার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়বে।
ভবিষ্যতে ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিওন (এফআইআর) সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নেও এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম প্রকল্প বাস্তবায়নে ফ্রান্স সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের অবদানের কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, থ্যালেসের সরবরাহকৃত প্রযুক্তি দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বহুগুণে বাড়াবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় -কে একটি বৈশ্বিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, এই উদ্যোগ দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের সূচনা করেছে। এর মাধ্যমে বিমান চলাচল আরও নিরাপদ, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমন্বিত আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, এই আধুনিক কেন্দ্র দেশের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
তিনি বলেন, অত্যাধুনিক এটিএম-সিএনএস প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা দূর হয়ে নিরাপত্তা, দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, এই প্রকল্প দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন। আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি বাংলাদেশের আকাশপথকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।
স্বাগত বক্তব্যে বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম জানান, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি থেকে নতুন এটিএমসি থেকে আধুনিক অটোমেশন সিস্টেম সফলভাবে চালু হয়েছে এবং আজ তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হলো।
তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সমন্বিত ফ্লাইট ডাটা প্রসেসিং, রাডার ও এডিএস-বি সমন্বয় এবং উন্নত সেফটি নেট ব্যবহারের ফলে রিয়েল-টাইম ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে। এতে ওভারফ্লাইট রাজস্ব বৃদ্ধি, বিলম্ব কমানো, জ্বালানি সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর কাছে বাংলাদেশের আকাশসীমার আকর্ষণ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।
মন্তব্য করুন