আজ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সাথে কাতারের
শ্রমমন্ত্রী Dr. Ali bin Saeed bin Samikh Al Marri-এর নেতৃত্বে কাতারের
প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ-কাতার ৭ম যৌথ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে
বাংলাদেশের পাঁচটি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে
ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে
বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী।
বৈঠকের শুরুতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক
চৌধুরী কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় আন্তরিক
ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার
ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের
সমস্যা সমাধান ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে কাতার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের
প্রশংসা করে তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশেষ করে, সাবেক
প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য এয়ার
অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে কাতারের আমির যে মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন,
সেজন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন
মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কাতারকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি অত্যন্ত
আকর্ষণীয় শ্রমবাজার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে চার লক্ষাধিক
বাংলাদেশি কর্মী কাতারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে
অবদান রাখছেন। ২০২৩ সালে এক লাখ সাত হাজার ৫৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে
গমন করেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চলতি বছর কাতার কর্তৃপক্ষ
এই সংখ্যার দ্বিগুণ কর্মী গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশে কাতারগামী কর্মীদের জন্য বর্তমানে ঢাকায় মাত্র একটি ভিসা ও
মেডিকেল সেন্টার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। স্বল্প সময়ে ভিসা ও
স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে কাতারের ভিসা
সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের জন্য কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বিশেষভাবে
অনুরোধ জানান মন্ত্রী। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, মন্ত্রণালয়ের অধীন ১১০টি
টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট ৫৫টি ট্রেডে
মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক কাতারের চলমান উন্নয়ন
কার্যক্রমে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ডাক্তার,
ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, কেয়ারগিভার, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিব ও ধর্মীয় শিক্ষক
নিয়োগের জন্য কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।
কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশের কর্মীদের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে জানান,
বর্তমানে কাতারে প্রায় চার লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন, যার
মধ্যে ৩০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে এবং বাকিরা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত। তিনি
বাংলাদেশের পাঁচটি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে
ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে
বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, কাতারে অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে ইতোমধ্যে দুইটি বিশেষ
প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। বিভাগীয় শহরে ভিসা
সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধির অনুরোধের প্রেক্ষিতে কাতারের শ্রমমন্ত্রী আশ্বস্ত
করেন যে, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাতারের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবেন।
যৌথ কমিটির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত
কাতারের রাষ্ট্রদূত আলি মাহদি সাঈদ আল-কাহতানি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক
কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ
সহকারী ড. মোঃ শাকিরুল ইসলাম খান এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।