অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Apr 15, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ফুটপাত দখলমুক্তকরণ: রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে সমাধান অসম্ভব

নগর জীবনের অন্যতম মৌলিক অধিকার হলো নির্বিঘ্নে চলাচল। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে—আমাদের শহরের ফুটপাতগুলো আজ পথচারীদের জন্য নয়, বরং দখলদারিত্বের এক অনিয়ন্ত্রিত চক্রের অংশে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফুটপাত দখলমুক্তকরণ নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ দৃশ্যমান হলেও, প্রশ্ন রয়ে যায়—এই উদ্যোগ কতটা টেকসই?

ফুটপাত দখলের জন্য শুধুমাত্র হকারদের দায়ী করা একটি সহজ কিন্তু অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যা। সমস্যার গভীরে রয়েছে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, যেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক শিথিলতা এবং নিয়মিত চাঁদা আদায়ের একটি অঘোষিত কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। ফলে ফুটপাত দখল একটি বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি একটি সংগঠিত ও প্রণোদিত প্রক্রিয়া।

নীতিনির্ধারণের জায়গা থেকে স্পষ্টভাবে বলা দরকার—যদি রাজনৈতিক দলগুলো দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা হকারদের কাছ থেকে কোনো ধরনের চাঁদা গ্রহণ করবে না, তাহলে ফুটপাত দখলের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। কারণ তখন অবৈধভাবে ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রণোদনা অনেকটাই হ্রাস পাবে।

অন্যদিকে, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রয়োজন ধারাবাহিক নজরদারি, আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। বিচ্ছিন্ন অভিযানের বদলে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দিকও বিবেচনায় রাখতে হবে। হকাররা এই শহরের অর্থনীতির একটি বাস্তব অংশ, যারা জীবিকার তাগিদেই ফুটপাতে বসে। তাই তাদের জন্য পরিকল্পিত বিকল্প স্থান, স্বল্পমূল্যের মার্কেট বা নির্দিষ্ট হকার জোন তৈরি না করে কেবল উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না।

একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে হলে ফুটপাতকে অবশ্যই পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নাগরিক সচেতনতার সমন্বিত প্রয়াস। অন্যথায়, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ কেবল একটি সাময়িক অভিযান হয়েই থেকে যাবে—স্থায়ী সমাধান কখনোই আসবে না।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে শোক জানালেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

1

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

2

ঢামেকে উদ্বেগজনক চিত্র: ২০২৫ সালে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ১,১০০

3

জাতীয় ঈদগাহে ঈদ-উল-আযহার নামাজ আদায় করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

4

৪ হাজার কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে এগিয়ে এলজিইডির আরসিআইপি, এডিবি

5

এআইতে সংবাদ ব্যবহারে গুগলের ওপর নতুন নিয়ন্ত্রণ

6

রিয়ালের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে সেমিতে বায়ার্ন

7

চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে আরও দু’টি তেলবাহী জাহাজ

8

সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে আসছে ফিনিক্স সামিট ২০২৬

9

গুম-খুন ও জুলাই শহীদ-আহত পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দ

10

১৫ বছর পর অশ্বিন-জাদেজাহীন ভারত

11

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত -স্বাস্থ্যমন্ত্রী

12

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে মতুয়া দর্শন এক অন

13

বিএনপি মিডিয়া সেলের নামে ভুয়া কমিটি, সতর্কবার্তা

14

বিশ্বকাপ পথে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথের সম্ভাবনা

15

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিমান চলাচলে ধাক্কা

16

খামেনির দাফনসূচি ঘোষণা করল ইরান

17

মুখস্থ নির্ভরতার পরিবর্তে বিসিএসে দক্ষতাভিত্তিক পদ্ধতির পরিক

18

মগবাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দুর্ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থী আহত

19

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েন রুটি

20