অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Oct 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সরকারি ঋণের হার কম, আইএমএফের প্রাক্কলন

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যভিত্তিক ২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪০ শতাংশ হতে পারে। এ হার ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের তুলনায় কম। তবে ঋণের অনুপাত কম থাকলেও টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ হতে পারে। একই সময়ে ভারতের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৮৩ শতাংশ, পাকিস্তানের ৭০ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ৯৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে মালদ্বীপের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ১৩১ শতাংশ এবং ভুটানের ১১৬ শতাংশ হতে পারে। নেপালের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৪৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বলে প্রাক্কলনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই হিসাব অনুযায়ী, জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের হার ভারতের অর্ধেকেরও কম। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায়ও বাংলাদেশের ঋণের অনুপাত কম। অন্যদিকে, মালদ্বীপ ও ভুটানের সরকারি ঋণের পরিমাণ তাদের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের তুলনায় বেশি হতে পারে।

অর্থনীতির আকারের তুলনায় সরকারি ঋণের এই পার্থক্য বাংলাদেশের তুলনামূলক কম ঋণ অনুপাতের অবস্থান তুলে ধরে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উন্নয়ন ব্যয়ের চাপের মধ্যে ঋণের অনুপাত নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত কম থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত নমনীয়তা বজায় রাখার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে ঋণ গ্রহণে টেকসই নীতি অনুসরণ, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের তুলনামূলক কম ঋণ অনুপাত ধরে রাখতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি নতুন ঋণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল নিশ্চিত করা এবং ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বর্তমানে মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উন্নয়ন চাহিদা পূরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সতর্ক ঋণ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদি আরবে হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ

1

ঘাঘট নদীতে গোসলে নেমে বেরোবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

2

পৃথিবীর ৯ প্রাকৃতিক সীমানার ৭টিই অতিক্রম, সতর্ক বিজ্ঞানীরা

3

স্বাস্থ্য-শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে কানাডার সহযোগিতা চাইলেন

4

বিশ্বকাপ পথে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথের সম্ভাবনা

5

আর্থিক খাতের নিরাপত্তা ও ব্যাংক সংস্কারে ১,২৭৬ কোটি টাকার প্

6

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের নতুন সচিব ড. মো. কামরুজ্জামান

7

হারিয়ে যাওয়ার পথে বাংলার লোকজ সংস্কৃতি

8

প্রতি উপজেলায় গার্লস স্কুল ও মাদ্রাসা সরকারিকরণ চাইলেন এমপি,

9

যুবদলের ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

10

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্

11

নিজ জেলায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, উৎসবের আমেজে ঠাকুরগাঁও

12

বরিশালের ছয় রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

13

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে বেড়েছে আখের আবাদ ও উৎপাদন

14

পুলিশের সাইবার সক্ষমতা বাড়াতে গঠন হবে স্বতন্ত্র সাইবার সিকিউ

15

ঢাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ২০ টিম, অনিয়মে জরিমানা ও সরকারি বা

16

বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

17

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেখা মিলল বিরল হীরামন পাখির

18

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে মজুত ডিজেল ছাড়ছে ইউরোপ

19

মুক্তিযুদ্ধ ছিল প্রকৃত জনযুদ্ধ: জাতীয় সংসদের স্পিকার

20