অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Oct 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পৃথিবীর ৯ প্রাকৃতিক সীমানার ৭টিই অতিক্রম, সতর্ক বিজ্ঞানীরা

মানুষের নিরাপদে বসবাসের জন্য নির্ধারিত পৃথিবীর ৯টি প্রাকৃতিক সীমানার মধ্যে ৭টিই ইতোমধ্যে অতিক্রম করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একদল বিজ্ঞানী। তাঁদের সতর্কতা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরিবেশের এমন ক্ষতি হতে পারে, যা আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে।

পটসড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের ৬০ জনের বেশি বিজ্ঞানী সম্প্রতি ‘২০২৬ প্ল্যানেটারি হেলথ চেক’ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এতে পৃথিবীর পরিবেশগত অবস্থার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে ৯টি প্রাকৃতিক সীমানার মধ্যে ৭টি অতিক্রম করার কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, ভূমির পরিবর্তন, সুপেয় পানির সংকট, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক দূষণ, সমুদ্রের অম্লতা বৃদ্ধি এবং ভূ-রাসায়নিক প্রবাহ—এই সাতটি সীমানা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে পৃথিবী।

এখন বাকি রয়েছে ওজোন স্তর এবং বায়ুমণ্ডলে অ্যারোসলের সীমানা। ওজোন স্তরের অবস্থায় কিছুটা উন্নতি হলেও অ্যারোসলের মাত্রা এখনো উদ্বেগের কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা ২০০৯ সালে পৃথিবীর নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এসব সীমানার ধারণা তুলে ধরেন। তবে কোনো সীমানা অতিক্রম করার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পৃথিবী ধ্বংসের মুখে পড়া নয়। বরং এর ফলে পরিবেশগত বড় ধরনের ঝুঁকি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

বিজ্ঞানীদের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় অ্যামাজন বন। পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই বন বিপুল পরিমাণ কার্বন ধারণ করে। কিন্তু বনটির ওপরও পরিবেশগত চাপ বাড়ছে।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এ চাপ অব্যাহত থাকলে অ্যামাজনের বন ও জলাভূমির ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব খাদ্য ও পানির সংকটের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

‘লাইভ সায়েন্স’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

তবে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজ্ঞানী জোহান রকস্ট্রোম আশার কথাও জানিয়েছেন। তাঁর মতে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি প্রকৃতি ধ্বংস বন্ধ করা গেলে পৃথিবীকে আবার নিরাপদ সীমানার মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

জোহান রকস্ট্রোমের মতে, পৃথিবীর পরিবেশগত সমস্যাগুলো পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তাই এসব সমস্যাকে আলাদা করে না দেখে সমন্বিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রিয়ালের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে সেমিতে বায়ার্ন

1

র‍্যাবকে একটি জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠন ক

2

৬ সংস্থা বিলুপ্ত করে গঠিত হচ্ছে নতুন ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা

3

ইসরায়েলে ৫৬ শতাংশ ভোট গণনা, এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট

4

শিশুকে শরীর ও সম্মতি নিয়ে স্বচ্ছন্দে কথা শেখানোর পরামর্শ দিয়

5

শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে বিকল্প পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত

6

একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

7

আর্থিক খাতের নিরাপত্তা ও ব্যাংক সংস্কারে ১,২৭৬ কোটি টাকার প্

8

স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ উন্নয়নের দৃষ্টান্ত উলশী-যদুনাথপুর প্রক

9

ওয়াসার প্রকল্পে দুই মাসে অগ্রগতি না হলে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের

10

শার্শায় গ্রাম পুলিশকে ওসির কড়া বার্তা, মাদক-চোরাচালানে জড়ালে

11

জিম্বাবুয়ে ফেরত নিতে না চাওয়ায় চিতাবাঘ দুটির জন্য দেশে বড় বে

12

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক: বুলু

13

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

14

খেলাধুলার সঙ্গে লেখাপড়া ও সংস্কৃতিতেও এগিয়ে যেতে হবে: প্রধান

15

ইউনাইটেড গ্রুপের শেয়ার লেনদেন তদন্তে বিএসইসি

16

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আল

17

দুর্গাপূজার ছুটিতে যাত্রীদের নিরাপত্তায় ৩৫ মোবাইল কোর্ট

18

ভূতের গুজবে পাঞ্জাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, গ্

19

মানব পাচার দমনে উইনরকের সহযোগিতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প

20