অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Nov 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনা মন্ত্রীর বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার উল্লেখ করে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার বঙ্গভবনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

কুনমিং ও চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করার প্রস্তাবিত করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি শি জিনপিংকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশেষ করে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়ক খাতগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

জবাবে চীনের মন্ত্রী সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের অর্থায়ন ও নির্মাণে সহযোগিতার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে চীনের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। জবাবে লিউ হাইশিং এ বিষয়ে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্যও রাষ্ট্রপতি দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আলোচনায় রাষ্ট্রপতি ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ওই সফরগুলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

লিউ হাইশিং বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে এ সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি চীনে তাঁর সর্বশেষ সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সফররত মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে। এসব বৈঠক পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত জুনে চীন সফরের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই সফর বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় এবং বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতাসংক্রান্ত দলিল স্বাক্ষরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি লিউ হাইশিংয়ের সুস্বাস্থ্য ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন।

এর আগে বঙ্গভবনে পৌঁছালে চীনা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি তাঁর সচিবদের সঙ্গে মন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন।

চীনা প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লিউ ইউইন এবং সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব (সমন্বয়) সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতি চীনের আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বঙ্গভবন পরিদর্শন করান। এ সময় চীনা মন্ত্রীর বাবা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত লিউ শুকিং ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশের ভিডিওচিত্র এবং এলজিআরডি মন্ত্রী থাকাকালে রাষ্ট্রপতির চীন সফরের আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, জন বিভাগের সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যেও ৭ মাসে বিদেশে গেছেন ৪ লাখ ৩৪ হাজ

1

কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পারিবারিক নজরদারি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার

2

ঢাকায় অগ্নিসংযোগ-সহিংসতার প্রতিবাদে প্রকৌশলীদের বিক্ষোভ

3

‘ক্রসফায়ার’ বন্ধ, অপরাধ দমনে ডিটেনশনের প্রস্তাব পুলিশের

4

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্

5

৩০ বছরেও জলবায়ু পদক্ষেপে অগ্রগতি নেই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

6

শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে বিকল্প পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত

7

হাসপাতালে মঈন খানকে দেখতে গেলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

8

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: মিষ্টির পদত্যাগ নিয়ে রাশেদ খ

9

বিএনপির দুই নেতার মৃত্যুতে ঢাকা ওয়াসা জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ ই

10

১৭ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে: রুহুল কবির রিজভী

11

প্রযুক্তিনির্ভর ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প

12

নাফ নদীর সীমান্ত সড়ক-পোল্ডারের কাজ শেষ করা হবে: পানিসম্পদ মন

13

সিনিয়র সচিব হলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান

14

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে কাজ কর

15

রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধী অপরাধীই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

16

অবকাঠামো নয়, শিশুর কার্যকর শেখাই প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রাধিকার

17

স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান রাষ্

18

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটি, বিমানের তদন্ত কমিটি গ

19

দেশ গড়তে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্

20