
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ আরও দীর্ঘ সময় চেয়েছে। অতিরিক্ত প্রস্তুতিমূলক সময় পেলে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতিকে আরও সক্ষম ও অভিঘাতসহনশীল করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের আগে বাংলাদেশ আরও দীর্ঘ প্রস্তুতিমূলক সময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। অতিরিক্ত সময় পেলে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও বিভিন্ন অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠকে এ দাবি জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ঢাকায় পাওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের অতিরিক্ত প্রস্তুতিমূলক সময় চাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিবেচনাধীন রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে এলডিসি গ্রুপের দেশগুলোর অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন এবং মসৃণ উত্তরণ কৌশল কার্যকর করার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে সামনে রেখে বৈঠকে এলডিসিগুলোর জন্য ছয়টি অগ্রাধিকারের বিষয় তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এসব অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কমে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকানো, সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার উন্নত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় পূর্বানুমেয় জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া অবৈধ আর্থিক প্রবাহ বন্ধ এবং পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে আরও জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিতে সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ঋণের চাপ, ওডিএ কমে যাওয়া, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু সংকট আমাদের সক্ষমতার পরীক্ষা নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনো ৭ শতাংশের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এসব দেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৫ শতাংশ হতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ‘থ্রি-আর’ কৌশল—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন—টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।
এলডিসি গ্রুপের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় নেপালকে ধন্যবাদ জানান হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।
পরবর্তী চেয়ার হিসেবে গাম্বিয়াকে স্বাগত জানিয়ে এলডিসি গ্রুপের কার্যক্রমে ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।