
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেল বিক্রিতে পরিমাপ জালিয়াতি ও গ্রাহক প্রতারণা রোধে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। পৃথক দুইটি মোবাইল কোর্ট অভিযানে দুই ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে জ্বালানি তেল কম সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ ডিসপেন্সিং ইউনিটগুলো সিলগালা করে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিএসটিআই সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের জ্বালানি তেল সরবরাহে অনিয়ম ও কারচুপি প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে রবিবার ও সোমবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কয়েকটি ডিসপেন্সিং ইউনিট পরীক্ষা করে গুরুতর অসঙ্গতি শনাক্ত করা হয়।
রবিবার রাজধানীর দারুস সালাম থানার কল্যাণপুর এলাকায় অবস্থিত সোহরাব সার্ভিস স্টেশনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পাম্পটির চারটি ডিসপেন্সিং ইউনিট পরীক্ষা করা হলে এর মধ্যে দুটি ইউনিটে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। পরিমাপ যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রতি ১০ লিটার জ্বালানি তেলের বিপরীতে গ্রাহকদের যথাক্রমে ১ হাজার ৮০ মিলিলিটার এবং ৯৮০ মিলিলিটার কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল।
অর্থাৎ, নির্ধারিত ১০ লিটারের পরিবর্তে প্রায় এক লিটার পর্যন্ত তেল কম দেওয়া হচ্ছিল, যা সরাসরি গ্রাহক প্রতারণার শামিল। এ অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি কারচুপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি ডিসপেন্সিং ইউনিট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এরপর সোমবার রাজধানীর মগবাজার এলাকায় সাংবাদিক সেলিনা পারভীন স্মরণীস্থ মইন মটরস ফিলিং স্টেশনেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে অকটেন সরবরাহকারী একটি ডিসপেন্সিং ইউনিট পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রতি ১০ লিটার জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ৮০ মিলিলিটার কম দেওয়া হচ্ছে।
এই অনিয়মের দায়ে ফিলিং স্টেশনটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ ইউনিটটি সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার না হন।
বিএসটিআই জানিয়েছে, জ্বালানি তেল বিক্রিতে সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করা এবং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করেছে।
অভিযানগুলো পরিচালনা করেন বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানম ও সাবেকুন নাহান। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক (মেট্রোলজি) রাভী মোহাম্মদ ইতমাম। এছাড়া ফিল্ড অফিসার সুমাইয়া আফরোজ লিজা এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) রেজওয়ানুল ইসলাম অভিযানে সহযোগিতা করেন।