
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবায় সংবাদ ও প্রকাশিত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশ পেয়েছে গুগল। যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, প্রকাশকদের নিজেদের কনটেন্ট কীভাবে ব্যবহার হবে, সে বিষয়ে আরও বেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিতে হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান চাইলে তাদের লেখা, তথ্য বা প্রতিবেদন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অনুসন্ধান সারাংশ তৈরিতে ব্যবহারের অনুমতি দেবে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে প্রকাশকরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে আরও শক্তিশালী অবস্থান থেকে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাট ও অনুসন্ধান প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে গুগলের প্রচলিত সার্চ ব্যবসা নতুন প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে এবং অনুসন্ধান ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতা ও বাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুগলের ঘোষিত পরিবর্তনগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অনুসন্ধান ব্যবসা সংক্রান্ত আরও কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হতে পারে।
নতুন শর্তে বলা হয়েছে, প্রকাশকদের কনটেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হবে কি না, সে বিষয়েও তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি কোনো প্রকাশক এ ধরনের ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলে তার বিরুদ্ধে কোনো বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য গুগলকে নয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রথমে সীমিত পরিসরে কিছু ওয়েবসাইটের সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা আরও বিস্তৃত পরিসরে কার্যকর করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুগে সংবাদ ও তথ্যের মালিকানা, ব্যবহার এবং প্রকাশকদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড তৈরি হতে পারে।