প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 13, 2026 ইং
বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এলজিইডির একটি সফল প্রকল্প ""এলজিসিআরআরপি"" সঠিক সময়ে সম্পন্ন হতে চলছে

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, অগ্রগতি ও দারিদ্র্য বিমোচন তথা কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং অবকাঠামো খাতে বিশ্বব্যাংক ঋণসহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় এবং আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতের সংস্কারে কারিগরি সহায়তাসহ বিশ্বব্যাংক পর্যাপ্ত ঋণসহায়তা দিচ্ছে।
বিশ্ব ব্যাংকের যে শাখা - ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) - নিম্ন আয়ের দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য ঋণ দেয়, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দেশ বাংলাদেশ। অন্যদিকে বাংলাদেশেরও সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্ব ব্যাংক।
বিশ্ব ব্যাংকের হিসেবে, সত্তরের দশকের শুরুতে উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা সম্পর্কে ব্যাংক যতটুকু ধারণা করেছিল সেটিকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।
দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।বিভিন্ন দপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের অঙ্গীকার প্রমাণ করার একটি বড় ক্ষেত্র। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো এবং এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে।
দীর্ঘ ৫০ বছরের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং চলমান সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের সমর্থন সরকারের উন্নয়নমুখী ভাবমূর্তিকে আরও মজবুত করে।
এই প্রকল্পগুলো কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে সহায়তা করছে।
বিশ্বব্যাপি কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস মহামারী পৃথিবীর সমস্ত জনপদের মতো বাংলাদেশেও আঘাত হানে। কোভিড-১৯ মহামারিতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও কোভিডের বিধি-নিষেধ ও লক-ডাউনে বিপর্যস্ত হয়। বিশেষত এই ভাইরাস বাংলাদেশে দীর্ঘসময় অবস্থানের ফলে নিরাপদ জীবন জীবিকার তাগিদে শহরে বসবাসরত প্রায় ২৭ মিলিয়ন মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়ে লাখো উপার্জনকারী ব্যক্তি। মহামারি কোভিডের ভয়াবহতার ফলে হতদরিদ্র মানুষের আয় যেমন কমে যায় তেমনি নগর ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার ফলে জনগণের মৌলিক পরিষেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া সত্তেও নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান যেমন- পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন সমূহের জনপ্রতিনিধিগণ তাদের নাগরিকদের সার্বিক সহায়তা প্রদানে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে এরূপ মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তায় বাংলাদেশের ১০টি মহানগর ও ৩২৯টি পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার পরিধি বৃদ্ধি, অবকাঠামোর মানোন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে গতিশীল করা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভবিষ্যতে যে কোনো মহামারির প্রাদুর্ভাব মোকাবেলার জন্য এলজিইডি গত এপ্রিল ২০২২ সালে “স্থানীয় সরকার কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি” (এলজিসিআরআরপি) প্রকল্পটি গ্রহণ করে যার শেষ হওয়ার মেয়াদকাল ২০২৬ সালে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় নানারকম বিধি-নিষেধ ও লক-ডাউনের ফলে অনানুষ্ঠানিক খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র এবং সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জীবিকা পুনরুদ্ধারের জন্য মেশিন ব্যবহারের পরিবর্তে পৌরসভা/নগর এলাকায় বসবাসরত দক্ষ, আধা-দক্ষ ও অদক্ষ সুবিধাবঞ্চিত দিন মজুরদের মাধ্যমে “শ্রম-ঘন গণপূর্ত” কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রকল্পের মোট স্কিমের মধ্যে “শ্রম-ঘন গণপূর্ত” কাজের স্কিমের শতকরা আনুপাতিক হার ২৫ ভাগ। এছাড়াও নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক গৃহীত স্কিমের আওতায় “শ্রম-ঘন গণপূর্ত” কার্যক্রমের মধ্যে ১০ হাজার দুস্থ নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রেখে এই নীতিমালা “LIPW Guideline” প্রণয়ন করা হয়েছিলো। বর্তমানে এই প্রকল্পের অগ্রগতি হলো ভৌত অগ্রগতি ৯০% এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮৩%। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাজমুস সাদাত মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, কোনো প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নের সফলতার প্রাণশক্তি হচ্ছে, প্রজ্ঞাবান নেতৃত্ব ও দক্ষ জনবল এবং প্রকল্পের কার্যক্রমের সাথে যুক্ত সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সততা,সচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক কর্ম দক্ষতার কারনেই বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান এই প্রকল্পটি অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার লক্ষে সঠিক সময়ে সম্পন্ন করার কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেভেলপমেন্ট টাইমস্